সর্দি (অ্যালার্জিক রাইনাইটিস)- পরিচিতি

সর্দি (অ্যালার্জিক রাইনাইটিস)-পরিচিতিঃ

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হল নাকের ভেতরের এক ধরণের সংক্রমণ যা বিভিন্ন অ্যালারজেন (অ্যালার্জি সৃষ্টি কারী পদার্থ) যেমনঃ পরাগ রেনু, ধুলা, ছত্রাক কনা, বিভিন্ন প্রানীর চামড়ার মৃত অংশ ইত্যাদির মাধ্যমে হতে পারে। এটা খুবই প্রচলিত একটি রোগ এবং বাংলাদেশে অনেকেরই এটি হয়ে থাকে।

উপসর্গঃ

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে সাধারনত ঠান্ডা জনিত উপসর্গ যেমন হাঁচি, চুলকানি এবং নাক বন্ধ কিংবা ক্রমাগত সর্দি পড়া ইত্যাদি দেখা দেয়। এই উপসর্গ গুলো সাধারনত অ্যালার্জেন এর সংস্পর্শে আসার পরপরই শুরু হয়। কিছু মানুষের অ্যালার্জিক রাইনাইটিস কয়েক মাসের জন্য হয় কারন তারা মৌসুমি অ্যালার্জেন যেমন ফুল এবং গাছের পরাগরেনু তে সংবেদনশীল। অন্যান্য অনেকে সারা বছরই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এ আক্রান্ত থাকে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এ আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের কিছু হালকা উপসর্গ থাকে যা খুব সহজেই চিকিৎসা করে ভাল করা যায়। তবে কিছু মানুষের জন্য উপসর্গগুলো গুরুতর এবং ক্রমাগত হতে পারে, যা ঘুমের সমস্যা এবং প্রাত্যহিক জীবনযাপনকে প্রভাবিত করতে পারে। এই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর উপসর্গগুলোর সময়ের সাথে কিছুটা উন্নতি হয়, কিন্তু এটা বেশ কয়েক বছর সময় নিতে পারে এবং সেটা চিরতরে ভাল হয়ে যাওয়া অসম্ভব।

আপনার কখন ডাক্তার দেখাতে হবে

আপনার ডাক্তার দেখানো উচিৎ যখন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর উপসর্গ আপনার ঘুমের সমস্যা করে, স্কুল অথবা কাজের মাঝে দৈনন্দিন জীবন যাপন কে ব্যাহত করে। ডাক্তার সাধারনত আপনার উপসর্গ এবং অসুবিধার সঠিক বর্ণনা থেকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগ নির্নয় করতে পারবে। যদি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর উপযুক্ত কারন খুঁজে না পাওয়া যায় তখন আপনাকে অ্যালার্জিক টেষ্ট দেওয়া হতে পারে।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর কারন কি?

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ঘটে যখন কোন অ্যালার্জেন এর প্রতি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যাবস্থা এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় যেন সেগুলো আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে দেহকোষ অনেক ধরনে রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যাতে ফলে মিউকাস মেমব্রেন(নাকের ভেতরের আবরণ) ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত মিউকাস উৎপন্ন হয়। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সাধারনত যেসব অ্যালার্জেন এর ফলে হয় তার মধ্যে আছে পরাগরেণু (এই রকম অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সাধারনত হে ফিভার নামে পরিচিত), গুড়া মাটি, ধুলোবালি, ছত্রাক কনা, ত্বক এর স্তর, কিছু নির্দিষ্ট প্রাণীর প্রস্রাবের ফোঁটা অথবা লালা ইত্যাদি।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর চিকিৎসা এবং প্রতিকারঃ

সম্পূর্নভাবে সম্ভাব্য অ্যালার্জেন গুলো এড়িয়ে চলা কঠিন, তবে যেসব অ্যালার্জেন আপনার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর আক্রমন ঘটায় বলে আপনি জানেন বা মনে করেন, সেগুলো কমানোর কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলে আপনার উপসর্গের উন্নতি হতে পারে। আপনার সমস্যা অল্প মাত্রাত হলে আপনি নিজেই কিছু ঔষধ খেয়ে এই উপসর্গ কমাতে পারেন, যেমন- ঘুম না আনা অ্যান্টিহিস্টামিন অথবা ডিকঞ্জেস্ট্যান্টস। এবং লবন-পানির দ্রবন দিয়ে নিয়মিত নাক পরিস্কার করবেন যেন নাকে কোনো অবাঞ্ছিত অ্যালার্জেন না থাকতে পারে। যদি এগুলো পালন করেও আপনি ভাল ফলাফল পেয়ে না থাকেন, তবে পরামর্শের জন্য আপনার ডাক্তার কে দেখাতে হবে। ডাক্তার তুলনামূলক শক্তিশালী ঔষধ দিতে পারেন, যেমন- কর্টিকস্টেরয়েডস সম্মৃদ্ধ নাকের স্প্রে।

আরো সমস্যা

কিছুক্ষত্রে,অ্যালার্জিক রাইনিটিস কিছু জটিলতা সৃষ্টি। যেমন-

নাকের পলিপ – অস্বাভাবিক কিন্তু বিনাইন (ক্যান্সারাস নয়) তরলের ঘন স্তর যা নাকের
রাস্তা ও সাইনাস এর ভেতর জমে থাকে।

সাইনুসাইটিস- নাকের জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারনে সৃষ্ট একধরনের সংক্রমন হয়ে
থাকে যা মিউকাস কে সাইনাস থেকে নিষ্কাশন করতে বাধা দেয়।

মধ্য-কর্ণ সংক্রমণ- কানের একটি অংশে সংক্রমন যা কানের পর্দার ঠিক পেছনে থাকে।
এই সমস্যাগুলো প্রায়ই ঔষধ এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়, যদিও গুরুতর অথবা দীর্ঘমেয়াদী কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রপোচার প্রয়োজন।