পানিশূন্যতা রোধে শসার কার্যকারীতা।

গরমের মধ্যে কোথাও বের হলেন। কিন্তু সাথে পানির বোতল নিতে ভুলে গেছেন। তেষ্টায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। পানির ভালো বিকল্প হতে পারে শসা। কারণ শসায় ৯৬ শতাংশ পানি রয়েছে। ফলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হবে। শসা লো ক্যালরি এবং লো ফেট খাবার। তাই শসার পানি, সাধারণ খাবার পানি থেকেও বিশুদ্ধ হয়ে থাকে। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে এসকরবিক এসিড ও কেসিক এসিড রয়েছে। যা শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে পানিশূন্যতা রোধ করে।

শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে শসা। এটি আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে। শসায় রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম। যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর মধ্যে সিলিকা আছে, যা নখ ভাঙ্গা থেকে রক্ষা করে। শরীরের বিভিন্ন সংযোগ টিস্যুকে সুদৃঢ় করতে কাজ করে শসা। সেই সাথে শরীরে ইউরিক এসিডের লেভেল কমায়।

শসার রস আর গাজরের রস মিশিয়ে খেলে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিডনি ভালো রাখতে তা সহায়ক। অনেক সময় ত্বকে ফোলা ফোলা ভাব হয়, এটি দূর করতেও শসা সাহায্য করে। রোদে পোড়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে।

শসার আরো কিছু কাজ :

শরীরের জ্বালাপোড়া কমায় : কখনো কখনো আমরা শরীরের ভেতরে বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করি। এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে লাগানো যেতে পারে।

ভিটামিনের চাহিদা পূরণ : প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিন দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে রয়েছে। ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে : শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিম্নমাত্রার ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। ওজন কমানোর জন্য শসা আদর্শ খাবার হিসেবে কাজ করবে। তাই ওজন কমাতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের স্যুপ ও সালাদে বেশি করে শসা ব্যবহার করুন।

হজমে সাহায্য করে : কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

সৌন্দর্যচর্চা : সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখতে পারেন। এতে চোখের কালো দাগ দূর হবে।